কারো এক ব্যাগ রক্ত দরকার, এক ফোনেই পৌঁছে যায় সেবা


প্রকাশিত : ২৯ জুলাই ২০২২

কারো এক ব্যাগ রক্ত দরকার, কারো বা পঙ্গুত্ব ঠেকাতে দরকার উন্নত চিকিৎসা। ছিদ্র হয়ে যাওয়া হার্টের ভাল্ব প্রতিস্থাপনের মতো কঠিন কাজে কাউকে প্রয়োজন, কারো বা ঘর আগুনে পুড়ে গেছে- এসব নানামুখী সমস্যার সমাধান মিলছে একটিমাত্র ফোনকলেই। ভুক্তভোগীরা পেয়ে যাচ্ছেন কাঙ্খিত সেবা। ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার হাটফাজিলপুর বাজারে ‘রক্তদাতা সংঘের’ ব্যানারে এসব দায়িত্বের বোঝা মাথায় নিয়েছেন একদল তরুণ-তরুণী। যাদের অনেকেই এখনো বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত।

নিরলসভাবে এসব কাজ করতে তাদের সমন্বয় করে চলেছেন সম্রাট হোসেন ও হাবিবুর রহমান। মাত্র দুই বছরের কম সময়ে রক্তদাতা সংঘ অর্জন করেছে বিরাট খ্যাতি। রক্তদাতা সংঘের নেতা বা মডারেটর অথবা অন্য যেকোনো পদবী নয়, মহৎ কাজের নেশায় যুক্ত আছেন সংঘের প্রধান পরামর্শক শিক্ষক হাবিবুর রহমান, বেসরকারি চাকরিজীবী ও সমাজ সংগঠক সম্রাট হোসেন বিশ্বাস, ইমরান মোল্যা, ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস, শাওন ইসলাম রিহান, শিখন খানসহ কয়েকশ কর্মী।

ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস জানান, গত ৫ বছরে তিনি ১০ বার রক্তদান করেছেন এবং গত দেড় বছরে তিনি রক্তদাতা সংঘের হয়ে ৫ বার রক্ত দিয়েছেন দুস্থ মানুষের সেবায়। এ ধরনের কাজে তিনি এবং তার সতীর্থরা গর্ববোধ করেন বলে জানান তিনি।

শৈলকুপার কুমিড়াদহ গ্রামের কৃষক দম্পতি সাজ্জাদুল ইসলাম ও লিপি খাতুন বেশ আবেগের সঙ্গে জানান, হার্টের একটি ভাল্বে ছিদ্র নিয়ে জন্মায় তাদের একমাত্র কন্যাশিশু সামিয়া ফেরদৌস। দেশের বিভিন্নস্থানে চিকিৎসা করালেও আর্থিক কারণে হয়ে ওঠেনি তার অস্ত্রোপচার। বিষয়টি কানে যাওয়ার পরই সংঘের সদস্যরা তাদের বাড়িতে এসে পরিবারসহ ঢাকায় নিয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করান। তারা প্রধানমন্ত্রীর অনুদান নিয়ে ছোট্ট শিশুটির সফল অস্ত্রোপচারে সহযোগিতা করেন। শিশুটির বয়স এখন প্রায় ৪ বছর। সে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ জীবনযাপন করছে।

সংঘের প্রধান পরামর্শক হাবিবুর রহমান জানান, ২০২০ সালের শেষ দিকে এলাকার অসহায় মানুষের মুমূর্ষু সময়ে রক্তের প্রয়োজনীয়তা, তাদের চিকিৎসা ও আর্থিক দিক বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠা করেন রক্তদাতা সংঘ। ফেসবুকে তাদের সদস্য সংখ্যা সাড়ে ৯ হাজার। মেসেঞ্জারে ৫শ’র মতো, তবে ডেটাবেজে আরো দেড় হাজার সদস্য রয়েছেন এ সংঘের ব্যানারে।

তিনি আরো জানান, এলাকার মানুষই নয়, বাইরের কোনো মানুষের রক্তের দরকার হলে তাদের কাছে একটি ফোনকলই যথেষ্ট। তাদের সদস্যরা যতো দ্রুত সম্ভব রক্তদানের ব্যবস্থা করেন। দরিদ্র মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হলে, পঙ্গুত্ব বা অন্য কোনো বড় ধরনের অস্ত্রোপচার, চোখের চিকিৎসা, হার্টের চিকিৎসা বা ওই জাতীয় সমস্যা সমাধানে তারা ছুটে চলেন যেখানে প্রয়োজন। মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে তারা মাঝেমধ্যে মেডিকেল ক্যাম্প, হার্টক্যাম্প, ব্লাড গ্রুপিং কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।

আপনার মতামত লিখুন :

এই বিভাগের সর্বশেষ