ভয়াবহ করোনায় কোটচাঁদপুরের একমাত্র সরকারি আবাসনের ১৬ টি পরিবারে নেই ত্রাণ!

প্রকাশিত : ৮ মে ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ: করোনা ভাইরাসের কবলে গোটা দেশের অসহায় কর্মহীন মানুষেরা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এমতবস্থায় ভয়ঙ্কর অমানবিক চিত্র দেখা গেল ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের একটি সরকারি আবাসন প্রকল্পে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার ৩ নম্বর কুশনা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড’র ঘাঘা তালসার এলাকায় গৃহহীনদের জন্য একমাত্র আবাসন প্রকল্পে ২০টি পরিবার থাকার কথা থাকলেও, বর্তমানে বসবাস করছেন ১৬টি পরিবার।

করোনা পরিস্থিতিতে অসহায় কর্মহীন আবাসনের বাসিন্দারা জানান, লকডাউনে প্রায় ৬২ দিন অতিবাহিত হলেও, এখনও পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোন ত্রাণ সহায়তা আমরা পাইনি। তাদের প্রশ্ন, সরকারি বরাদ্দকৃত ত্রান তাহলে কাদের জন্য?
আবাসনের জালালের ছেলে মোবারক হোসেন জানান এলাকার মেম্বার সাহেব বললেন তোমরা ত্রাণ পাবার যোগ্য না। তিনি আরো জানান, আমি দশ বছর ওখানে বসবাস করছি কিন্তু কোন সময়ই এধরনের সহায়তা পায়নি। এ ব্যাপারে ওয়ার্ড মেম্বার আবুল বাশার বলেন তিনটি পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে। আমার ভাগে ত্রাণ সীমিত বরাদ্দের কারনে বাকি পরিবারকে ত্রাণ দিতে পারেননি।

কুশনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান জানান, সবকিছু আমার একার পক্ষে দেখা সম্ভব না বিধায় ওই এলাকার মেম্বার ও নেতাকর্মীদের উপর দায়িত্ব দিয়া আছে। তাছাড়া আরো জানার দরকার থাকলে উপজেলা থে‌কে লিস্ট উঠিয়ে দেখেন, বলে ফোন কেটে দেন। এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নাজনীন সুলতানা বলেন, বিষয়টি আমার নখদর্পণের বাইরে ছিল। জানতে পারলাম খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করব ।

এদিকে আবাসন বাসিন্দারা স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে বলেন ভাইরাস জনিত স্বাস্থ্য বিষয়ে মেম্বার, চেয়ারম্যান কিংবা স্থানীয় কোন জ্ঞানী সচেতন ব্যক্তিও আমাদেরকে কিছুই বলেননি। তাছাড়া ভাতের ব‌্যাবস্থায় হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি কিভাবে মানবো? ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মোহাম্মদ বিপুল বলেন প্রত্যেক মাসে একবার ওখা‌নে যায়। এ মাসেও যাব। প্রয়োজনে রেজুলেশন খাতা চেক করুন জানিয়ে করোন ভাইরাস সচেতনতার বিষয়টি সুকৌশলে এড়িয়ে যান ।

এ সময় উপস্থিত আবাসনের বাসিন্দারা সাংবাদিকদের বলেন আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন; আমাদের ক্ষুধা নিবারণের ব্যবস্থার পাশাপাশি মানবিক জীবন-যাপনের সুব্যবস্থা নি‌শ্চিতকর‌ণের দাবি জান‌া‌চ্ছি।

 

আপনার মতামত লিখুন :