ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুরির অপবাদে শিশু ও তার মাকে মারধর, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৫ দুপুর

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মানিব্যাগ চুরির অপবাদে ১২ বছরের এক শিশু ও তার মাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী হাফিজুর রহমান চুন্নুর বিরুদ্ধে। মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের গামুরবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। মারধরের পর ভয়ে ওই শিশু ও তার মা চার দিন ঘর থেকে বের হতে পারেননি। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে সকালে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

ভুক্তভোগী শিশু জিসান (১২) গামুরবুনিয়া গ্রামের মৃত বাচ্চু হাওলাদারের ছেলে। তার মা নাজমা বেগমের অভিযোগ, মানিব্যাগ চুরির অপবাদ দিয়ে তাঁকেও মারধর করা হয়েছে। নাজমা বেগম বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে তাঁর স্বামী বাচ্চু হাওলাদার মারা যান। এর আগে জমি বন্ধক রাখার বিনিময়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চুন্নুর ছোট ভাই আবদুল হাইকে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন তাঁর স্বামী। তবে ওই টাকা লেনদেনের কোনো লিখিত কাগজ ছিল না।

নাজমার দাবি, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ওই টাকা লেনদেনের লিখিত প্রমাণ চেয়ে কয়েকবার আবদুল হাইয়ের কাছে যান। এতে চুন্নু ও তাঁর ভাই ক্ষুব্ধ ছিলেন। বৃষ্টির কারণে সড়ক কর্দমাক্ত থাকায় চুন্নুর বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে তাঁদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন তাঁরা। নাজমা বলেন, গত শুক্রবার চুন্নু ও তাঁর ভাই, তাঁর ১২ বছরের  ছেলে জিসান ও তাঁকে তাঁদের ঘরে ডেকে নেন। সেখানে মানিব্যাগ চুরির অপবাদ দিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁদের মারধর করা হয়। তাঁর অভিযোগ, জমি বন্ধকের এক লাখ টাকা দেওয়ার লিখিত প্রমাণ চাওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

কলাপাড়া উপজেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, সকাল বেলা বাচ্চাটা আর ওর মা এসে ভর্তি হয়েছে। শরীরের দুজনেরই আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দুই দিন আগের ঘটনা যে স্থানে আঘাত করেছে সেসব জায়গায় কালো দাগ হয়ে গিয়েছে। আমরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি। 

এ বিষয়ে জানতে কলাপাড়া  উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চুন্নু বলেন, ও ই ছেলে চোর ও এলাকার সব জায়গায় চুরি করে বেড়ায়। সেদিন চুরি করার পর প্রশাসনকে বলেছি তারা বলেছে দুই একটা পিডান পুডান দিয়ে ছেড়ে দিন। ওর মাকে মারার অভিযোগে তিনি বলেন, ওরা এলাকার জাত চোর সবাই জানে। আর আমরাও মানবিক, ও র মা আমার ভাগ্নি সম্পর্কে হয়। ওর মাকে বলেছি পোলা ঢাকা পাঠাইয়া দিতে।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদেরকে বলেন, আমার কাছে এমন কোন অভিযোগ আসেনি। আমি হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে দেখছি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Link copied!