ঢাকা শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

দীর্ঘ দুই বছর পর গাজার রাফাহ ক্রসিং আংশিকভাবে খুলে দিচ্ছে ইসরায়েল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:৩৯ রাত

দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর আগামী রবিবার গাজার গুরুত্বপূর্ণ রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। শুক্রবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসামরিক শাখা ‘কোগাট’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, গাজা ও মিশরের সংযোগকারী এই সীমান্তটি আপাতত শুধুমাত্র সীমিত পরিসরে মানুষের যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

মূলত যুক্তরাষ্ট্র-মধ্যস্থতাকারী যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের শর্ত অনুযায়ী এই সীমান্তটি খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গাজার প্রায় ২০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য জরুরি খাদ্য, ওষুধ ও ত্রাণ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এই পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইসরায়েল এই ক্রসিংয়ের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। যারা যুদ্ধ চলাকালীন গাজা ছেড়ে মিশরে গিয়েছিলেন, কেবল তারাই ইসরায়েলের আগাম নিরাপত্তা ছাড়পত্র এবং মিশরের সঙ্গে সমন্বয় সাপেক্ষে গাজায় ফিরতে পারবেন। 

এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি মিশনের তত্ত্বাবধানে এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিশেষ করিডোরে পরিচয় যাচাইয়ের পরই যাতায়াত করা যাবে। এদিকে হামাস এই সীমান্তটি কোনোপ্রকার বিধিনিষেধ ছাড়াই সব ধরনের চলাচলের জন্য সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তারা মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোকে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছে যাতে শান্তি প্রক্রিয়ার এই চুক্তি বাধাগ্রস্ত না হয়। অন্যদিকে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে দ্রুত এই পথটি সচল করার তাগিদ দিয়ে আসছে।

উল্লেখ্য যে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ গত সপ্তাহে শেষ হওয়ার পর এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে গাজায় এখনও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭১ হাজার ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে, যার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর নিহত হয়েছেন অন্তত ৪৯০ জন। শীতকালীন ঝড় ও তীব্র ঠান্ডার মধ্যে এই সীমান্ত খুলে দেওয়া গাজার মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

Link copied!