ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মূলহোতা ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনকে আগেই গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তাদের ১৪ দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ তারিখ ফের তাদের বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হবে। এবার ফিলিপ সাংমা নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গের এসটিএফ। তথ্য মতে ফয়সাল এবং আলমগীরকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করিয়েছিল ফিলিপ। জানা যায়, ফিলিপও বাংলাদেশি। দুই অভিযুক্তকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতের মেঘালয়ে প্রবেশ করায় ফিলিপ। এসটিএফ সূত্রের খবর, শুক্রবার (১৩ মার্চ) মধ্যরাতর ফিলিপকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্তর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলাও দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ফিলিপকেও নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে এসটিএফ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই মামলায় আরও চক্রীদের সমন্ধে বিস্তারিত তথ্য জানতে চায় তদন্তকারী কর্মকর্তারা। গত সপ্তাহের শনিবার মধ্যরাতে অভিযুক্ত ফয়সাল এবং আলমগীরকে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ। ৮ মার্চ তাদের স্থানীয় আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেয় বিচারক। ওই দুই অভিযুক্ত অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমে ভারতে মেঘালয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। তথ্য মতে, তারা ফের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ হয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশ প্রবেশ করার পরিকল্পনা করেছিল। এর আগে, গতবছর ২৬ ডিসেম্বর জানা যায়, হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল এবং তার সহযোগী আলমগীর শেখকে ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তাকারী দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পুলিশ। সূত্র মারফত জানা যায়, সামি ও পুত্তি নামে দুই ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই দুই ভারতীয় অভিযুক্তদের স্লেটার দিয়েছিল। তবে অপর একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশের তৎকালীন উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্য পুলিশ ঘটনা স্বীকার করেনি। পাশাপাশি সূত্র মারফত সূত্র এও জানা যায় যে, পুলিশের অনুমান ছিল, ফয়সাল মেঘালয় বা আসামের মধ্যে গা ঢাকা দিয়েছে। সামি এবং পুত্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ফয়সালের আসল তথ্য খোজা হচ্ছিল। যদিও এমন কোনো তথ্য মেঘালয় পুলিশ অফিসিয়াল বিবৃতি দেয়নি। পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার হয় হাদি হত্যার মূল দুই হোতা। এবার গ্রেপ্তার হলো ফিলিপ সাংমা নামে আরও একজন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তরা ইনকিলাব মঞ্চ-এর মুখপাত্র হাদিকে গুলি করে এবং এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯ টার সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন হাদি। এরপরই বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভারতে থাকার খবর সামনে আসে।

আপনার মতামত লিখুন :