মো. সাইদুল ইসলাম: বেনাপোল পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। সুপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব, ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট এবং মাদকের বিস্তারসহ নানা নাগরিক সমস্যায় জর্জরিত এই এলাকার মানুষ। পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন অলিগলি ও পাড়া-মহল্লায় দিনভর গণসংযোগ চালিয়েছেন যুবদল নেতা ও জনপ্রিয় প্রার্থী মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ।
গণসংযোগকালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দুর্ভোগ, অভাব-অভিযোগ প্রার্থীর কাছে তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ সমূহের মধ্যে রয়েছে-
*সুপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে এবং ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই অলিগলি ও বাসাবাড়িতে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
*ওয়ার্ডের ভেতরের অনেক অলিগলির সড়ক ভাঙাচোরা ও অপ্রশস্ত। খানাখন্দের কারণে যানবাহন ও সাধারণ পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
* সীমান্তসংলগ্ন এলাকা হওয়ায় ওয়ার্ডের কয়েকটি পয়েন্টে মাদকের সহজলভ্যতা একটি বড় সমস্যা। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রধান দাবি এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করা।
* নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা অপসারণের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় অনেক স্থানে আবর্জনার স্তূপ তৈরি হয়, যা মশার উপদ্রব বাড়ায় ও দুর্গন্ধ ছড়ায়।
*আবাসিক এলাকা ও অলিগলিগুলোতে পর্যাপ্ত সড়ক বাতি না থাকায় রাতের বেলা যাতায়াতে সাধারণ মানুষ ও নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
* ওয়ার্ডের কিছু এলাকায় নিরাপদ সুপেয় পানির পর্যাপ্ত অভাব রয়েছে।
ওয়ার্ডবাসীর বক্তব্য শুনে যুবদল নেতা ইমদাদুল হক বলেন, “৩ নম্বর ওয়ার্ড পৌর ভবনের সন্নিকটে হলেও নাগরিক সুবিধার বিচারে পিছিয়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এখানকার অলিগলিতে পানি জমে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়। নির্বাচিত হলে এই ওয়ার্ডের ড্রেনেজ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করে জলাবদ্ধতা দূর করা, নতুন রাস্তাঘাট নির্মাণ, পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট স্থাপন এবং যুবসমাজকে রক্ষায় এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করা হবে। তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, অবহেলিত ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি মডেল, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ বাসযোগ্য ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”
গণসংযোগে অংশ নেওয়া সাধারণ ভোটাররা প্রার্থীর এই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাকেন্দ্রিক আশ্বাসকে স্বাগত জানান। তারা বলছেন, ইমদাদুল হক ইমদাদের সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার সাবলীল ভঙ্গি ও তৃণমূলের আন্তরিক সাড়া দেখে বোঝা যায়, জনসমর্থনের দৌড়ে তিনি বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। যদি এই গণজোয়ারের ধারা ভোটের দিন পর্যন্ত বজায় থাকে, তবে তাঁর বিজয়ের সম্ভাবনা বেশ জোরালো।
পুরুষ, বয়োবৃদ্ধসহ বিভিন্ন পেশা ও শ্রেনীর মানুষের বাড়ি বাড়ি ও দোকানে গিয়ে তিনি লিফলেট পৌঁছে দিচ্ছেন, এবং সাধারণ মানুষও অত্যন্ত আগ্রহের সাথে তাঁর হাত থেকে লিফলেট গ্রহণ করছেন। ভোটারদের প্রার্থী ও তাঁর সহকর্মীদের কথা অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনতে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় ইতিবাচক সাড়া দিতে দেখা যাচ্ছে।
প্রার্থীর এই গণসংযোগে তরুণ, বয়োবৃদ্ধ, নারী ও স্থানীয় সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছানোর এই জনমুখী কৌশল ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে বড় ভূমিকা রাখছে। ভোটাররাও প্রার্থীর এই আন্তরিকতায় ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন।
নবম দিনে ইমদাদের প্রচারনায় অংশ নেন- বেনাপোল পৌর বিএনপি’র সহ-সভাপতি- মো. শাহাবুদ্দিন, সহ-সভাপতি- শাহাদুর রহমান খোকন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- মেহেরুল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- রেজাউল করিম, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক- জিয়াউর রহমান জিয়া, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক- ইসরাফিল সরদার, ৬ নং ওয়ার্ডের ভবারবেড় গ্রামের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- মইদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা- আজগর আলী, বেনাপোল পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক- শহিদুল ইসলাম শহীদ, বেনাপোল পৌর যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক- জনি হায়দার, ইয়াসিন মোড়ল লাফু, আশরাফুজ্জামান মির্জা, সদস্য- মফিজুর রহমান সদস্য- হযরত আলী, বেনাপোল পৌর কৃষকদলের যুগ্ম সম্পাদক- রফিকুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা আব্দুল হান্নান, বেনাপোল পৌর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক- তোফাজ্জল তুহিন হোসেন, আতিকুর জামান সনি, সদস্য- মহাসিন আলম, যুব নেতা- মনির হোসেন সহ বেনাপোল পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল সহ অংগ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন :