কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর মহিপুর থানা সদরে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের দন্দের জেরে কেয়ার মডেল হাসপাতালে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সিয়াম মাহমুদকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিয়াম মাহমুদকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। হাসপাতালে হামলা ভাংচুর এর ঘটনায় মহিপুর থানা বিএনপি ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নেয়। বহিস্কার আদেশ এর পর বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়।
মাত্র দুই হাজার টাকার লেনদেন ঘিরে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম দেয়। এতে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। এর আগে (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিয়ামের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল হাসপাতালে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়।
প্রথমে মহিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম শাওনকে একদফা মারধর করা হয়। শাওন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সিয়ামের নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফা হামলাকালে হাসপাতালটিতে ভাংচুর চালানো হয়।
এ সময় হাসপাতালের কাউন্টারের গ্লাস আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ভাংচুর তছনছ করা হয়। আকস্মিক হামলা ভাংচুরের ঘটনায় হাসপাতালের রোগী ও স্টাফদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা শঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করতে থাকেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
হামলার শিকার মহিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম শাওন অভিযোগ করেন, ব্যবসায়িক লেনদেনে দুই হাজার টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে সিয়াম মাহমুদ আকরাম, মো. বাপ্পী, ইসমাইল, রিফাত পারভেজ, আব্দুল্লাহ, সৌরভ, ইমরান, আরিফ, জয়ানালসহ কয়েকজন তার ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। পরে তিনি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে দ্বিতীয় দফায় হামলার শিকার হন। এ সময় হাসপাতালের কাউন্টারসহ ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
কেয়ার মডেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘হঠাৎ ১০-১২ জন যুবক হাসপাতালে প্রবেশ করে হামলা ভাঙচুর চালায়। এতে রোগী ও স্টাফরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এতে তার লক্ষাধিক টাকার অধিক ক্ষতিসহ হাসপাতালের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে।
আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
স্থানীয়রা জানান, মহিপুর থানা সদরে ছাত্র দলের কিশোর গ্যাংয়ের নানা অপতৎপরতার কারণে দলের দুর্নাম ছড়িয়ে পরছে। প্রশাসনের নিরবতায় এরা নানা অপরাধে জড়িয়ে পরছে।
এদিকে ছাত্রদল নেতা সিয়াম মাহমুদ কে বহিস্কৃার করায় জেলা ছাত্রদলকে বাহ বাহ জানিয়েছে স্থানীয় মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন :