গ্রেফতার সাংবাদিকদের মুক্তি দাবি সম্পাদক পরিষদের

প্রকাশিত : ৮ মে ২০২০

সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া সাংবাদিকদের সবাইকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার ও তাদের বিরুদ্ধে রুজু করা সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। এক বিবৃতিতে পরিষদ সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে যখন-তখন ও নির্বিচারে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট (ডিএসএ) প্রয়োগের নিন্দা ও অ্যাক্টটি বাতিলের দাবি জানায়।

সম্পাদক পরিষদের পক্ষে সভাপতি মাহফুজ আনাম ও মহাসচিব নঈম নিজাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে সাংবাদিক, এক কার্টুনিস্ট ও একজন লেখকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের বেশ কয়েকজনকে ডিএসএ’য় গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের আগে অভিযোগের ভিত্তি খতিয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করা হচ্ছে না।’

‘ভাবমূর্তির ক্ষতি করা হয়েছে, গুজব ছড়ানো হচ্ছে, অথবা সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে’ এ ধরনের যুক্তি মনে হয় সাংবাদিককে কারাগারে রাখার জন্য যথেষ্ট। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডিএসএর অধীনে যেকোনো অভিযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রেফতার ঘটাচ্ছে। ফটো সাংবাদিক কাজলকে সম্প্রতি হাতকড়া পরিয়ে আদালতে তোলা হয়। সাম্প্রতিক মামলাগুলোর অধিকাংশেরই নেপথ্যে ছিল আইন প্রণেতাদের, জেলা প্রশাসনের এবং ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের নিছক সমালোচনা।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আইন প্রণেতারা ঐতিহ্যগতভাবে সব সময় মুক্ত গণমাধ্যম ও মুক্তচিন্তার পক্ষে থাকেন। দুঃখের বিষয়, তাদেরই কয়েকজন এখন মিডিয়ার বিরুদ্ধে ডিএসএ-চালিত ক্রিয়াকলাপের অংশ। বিদ্যমান মানহানি আইনের স্থলে ডিএসএর অধীনে মামলা দায়েরকে প্রাধান্য দেওয়ার মধ্যে ন্যায়বিচার চাওয়ার চেয়ে সাংবাদিকদের ভয় প্রদর্শন ও হয়রানির ইচ্ছারই ইঙ্গিত দেয়।’

‘দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরা এবং প্রশাসনের ব্যর্থতা দেখিয়ে দেওয়াটা গণমাধ্যমের ঐতিহ্যগত কর্তব্য। মহামারি ও এর ভয়ংকর পরিণতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সরকার যখন হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে, তখন এই কর্তব্যটি অনেক বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়ে।’

‘সম্পাদক পরিষদ ডিএসএর সূচনাকাল থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে এই আশঙ্কায় যে আইনটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দমনের কাজে ব্যবহৃত হবে। আমাদের আশঙ্কাটি এখন গণমাধ্যমের কাছে দুঃস্বপ্ন-বাস্তবতা।’ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাংবাদিকদের নামে সাম্প্রতিক মামলা করা ও তাদের গ্রেফতারকে আমরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সুস্পষ্ট হুমকি মনে করি।’

আপনার মতামত লিখুন :